Search Bar

পাহাড়ের রক্তের ইতিহাস: নেপথ্যের কারিগর কে

কাপ্তাই বাঁধের কান্না থেকে (RAW)-এর প্রক্সি ওয়ার এবং শান্তি বাহিনীর উত্থান!


  • মূল পয়েন্টসমূহ (Bullet Points with Icons):

    • 🔹 ১৯৬৮: ভারতের 'অপারেশন ঈগল' ও পাহাড়ে অশান্তির বীজ বপন।
    • 🔹 ১৯৭৫: এমএন লারমার ভারতে পলায়ন এবং (র)-এর চক্রান্তে যুক্ত হওয়া।
    • 🔹 ১৯৭৭: পিসিজেএসএস ও সশস্ত্র 'শান্তি বাহিনী'র জন্ম ও অস্ত্রায়ন।
    • 🔹 রক্তাক্ত ইতিহাস: ভূষণছড়াসহ বিভিন্ন নৃশংস হত্যাকাণ্ড।
    • 🔹 বর্তমান প্রেক্ষাপট: সান্ত লারমার ভারত সংযোগ ও নতুন ষড়যন্ত্র!কিছু অজানা ও ভয়ংকর সত্য:

      ১️⃣ এমএন লারমার ভূমিকা: ৭৫-এ শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর এমএন লারমা ভারতে পালিয়ে যায় এবং (র)-এর (RAW) আশ্রয় নেয়।
      ২️⃣ গেরিলা প্রশিক্ষণ: দেরাদুনের চকরাতা ক্যাম্পে (র)-এর স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স চাকমা মিলিট্যান্টদের অস্ত্র ও গেরিলা প্রশিক্ষণ দেয়।
      ৩️⃣ শান্তি বাহিনীর জন্ম: (র)-এর প্রত্যক্ষ সহায়তায় ১৯৭২ সালে পিসিজেএসএস এবং ১৯৭৭ সালে গঠিত হয় সশস্ত্র শাখা 'শান্তি বাহিনী'। ত্রিপুরার গভীর জঙ্গলে প্রায় ৫০,০০০ মিলিট্যান্টকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দেওয়া হয়।
      ৪️⃣ রক্তাক্ত অধ্যায়: ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত শান্তি বাহিনীর হামলায় প্রায় ২০,০০০ মানুষ নিহত হয়। ১৯৮৪ সালের ভূষণছড়া গণহত্যায় প্রায় ৪০০ বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। বাদ যায়নি সাধারণ উপজাতিরাও।
      ৫️⃣ বর্তমান ষড়যন্ত্র: ১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তির পর সাময়িক থিতু হলেও, বর্তমানে সান্ত লারমা চিকিৎসার নাম করে ভারতে গিয়ে ত্রিপুরা ও মিজোরাম থেকে পুনরায় পাহাড়কে অশান্ত করার ছক কষছে!

      পাহাড়ের এই প্রক্সি ওয়ার এবং দেশবিরোধী চক্রান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের ইতিহাস জানা জরুরি।

    • আমাদের সেই ভয়ংকর তথ্যের নেপথ্যে রয়েছে এমএন লারমা তথা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা নামের এক বিশেষ ব্যাক্তি। ২৬ নভেম্বর ২০২১ সালে নেপালের টেলিগ্রাফ পত্রিকায় "Internal Conflicts and Opportunistic Intervention by Neighboring States: A Study of India's Involvement in Insurgencies in South Asia – Part 2" নামক একটি আর্টিকেল ছাপা হয়।

       

      এই আর্টিকেলের "India's Involvement in Bangladesh's Chittagong Hill Tracts Insurgency" সেকশনে উল্লেখ আছে ৭৫ সালে শেখ মুজিবর রহমানের মৃত্যুর পর এই এমএন লারমা ভারতে পালিয়ে যায় এবং (র) এর কাছে আশ্রয় নেয়।

       

      প্রশ্ন আসতেই পারে সে কেন ভারতে পালাবে, কে সে?

       

      পাকিস্তান সরকারের সময়ে ১৯৫৭-৬২ সালে USAID এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সহায়তায় কাপ্তাই হ্রদের উপরে জল বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্যে বাঁধ দেয়া হয়। সরকার এ থেকে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিতের পরিকল্পনা করে।

       

      এবং এই প্রকল্প তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে, এমনকি আজও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের ৫-১০% অবদান রাখছে। USAID Reports on Kaptai Dam: USAID-এর রিপোর্টে "The Kaptai Dam: A Brief History" সেকশনে বাঁধের নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুবিধার কথা উল্লেখ আছে।

       

      তবে এর এক ভিন্ন রূপও আছে। বাঁধের ফলে প্রায় ৫৪,০০০ একর জমি ডুবে যায়, যা পাহাড়ের প্রায় ৪০% চাষযোগ্য জমি। ফলে ১ লাখেরও বেশি উপজাতি (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা প্রমুখ) ভূমিহীন হয়ে পড়ে।

       

      যার কারনে এটি 'লেক অফ টিয়ার্স' নামে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং  ৬৮ সালে ভারত এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক অশান্তির বীজ বপনে করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠির মাঝে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আমাদের পাহাড়কে অশান্ত করার এই প্রজেক্টের নাম দেয়া হয় ‘অপারেশন ঈগল’।

       

      চাকমা নেতাদের (এমএন লারমার প্রারম্ভিক সহযোগী) দেহরাদুনের কাছে চকরাতা ক্যাম্পে গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। (র) এর স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স (SFF, তিব্বতী শরণার্থীদের সাথে যুক্ত) এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে।

       

      এবং এর সম্পূর্ণ তত্ত্ববধান করে (র) এর তৎকালীন প্রধান আরএন কাও। আশোক রেইনা তার ‘Inside RAW’ বইয়ে লেখেন,"The phantoms of Chittagong were not born in the hills; they were forged in Delhi's shadows"।

       

      তৈরী হয় “উপজাতীয় কল্যাণ সমিতি”। আর তা থেকে উদ্ভূত হয়ে (র) এর প্রত্যক্ষ সহায়তায় এমএন লারমার হাত ধরে ১৯৭২ সালে জন্ম নেয় পিসিজেএসএস এবং ১৯৭৭ সালে তার সশস্ত্র শাখা শান্তি বাহিনী।

       

      তারা শান্তি বাহিনীকে অস্ত্র, টাকা এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলতে শুরু করে। ত্রিপুরার গভীর জঙ্গলে গোপন ক্যাম্পে প্রায় ৫০,০০০ চাকমা মিলিট্যান্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সাথে রাইফেল, গ্রেনেড, ও বিস্ফোরক সরবরাহ করা হয়।

       

      ১১ জুন ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি রিপোর্টের মাধ্যমে এই বিদ্রোহীরা নিজেরাই স্বীকার করে যে ভারত তাদের অস্ত্র ও আশ্রয় দিচ্ছে।

       

      এই খেলায় (র) তাদের কেবল সাহায্যই করেনি বরং একটি 'প্রক্সি ফোর্স' হিসেবে তৈরি করেছে, যার দ্বারা বাংলাদেশের পাহাড়ে অশান্তি ছড়িয়েছে। Inside RAW: The Story of India’s Secret Service" by Ashok Raina: বইয়ের অধ্যায় ৬-এর পৃষ্ঠা ৪৮-৫০-এ সিএইচটিতে (র)-এর অস্ত্র সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া আছে।

       

      এখানকার "Phantoms of Chittagong" সেকশনে সিএইচটি এবং বাংলাদেশের ইনসার্জেন্সি নিয়েও পর্দার আড়ালের তথ্য দেয়া আছে।

       

      একই বইয়ের পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭-এ ১৯৭১-এর পর সিএইচটিতে (র)-এর অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নেপথ্য ভূমিকার ফলে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে অস্ত্রধারনের যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে তারও আলোচনা আছে। 

       

      ১৯৭৭ সালে শান্তি বাহিনীর নামে অস্ত্রধারী বিদ্রোহী গোষ্ঠির উত্থানের পর ১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে সিএইচটিতে বাঙালী বসতি স্থাপন শুরু হয়। এই সিদ্ধান্তের মূলেই ছিল জাতীয় নিরাপত্তা এবং উক্ত অঞ্চলে জনসংখ্যার ভারসাম্য নিশ্চিত করা।

       

      প্রথম ফেজে ৩০,০০০ পরিবার (প্রায় ১.৫ লাখ মানুষ) পুনর্বাসন করা হয়, যেখানে প্রত্যেককে ৫ একর জমি, টাকা এবং খাদ্য দেওয়া হয়। ১৯৮০-১৯৮২ সালে আরও ২৫০,০০০ বাঙালী আসে। যার ফলে আজ সিএইচটির জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি বাঙালী এবং এই ডেমোগ্রাফিক শিফটের ফলে সিএইচটিতে এখনও সরকারের কর্তৃত্ব বহাল আছে।

       

      Bangladesh Govt Reports on Bengali Settlement: BSS (Bangladesh Sangbad Sangstha) রিপোর্টে "Transmigration Policy" সেকশনে এই তথ্যের উল্লেখ আছে।

       

      স্বায়ত্তশাসনের দাবীতে শান্তি বাহিনী ১৯৭৭ সালে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কনভয়ের উপর প্রথম গেরিলা হামলা পরিচালনা করে।

       

      এরপর ২৩ শে জুন ১৯৮১ সালে খাগড়াছড়িতে বিডিআরের একটি ক্যাম্পে হামলা করে ১৩ জন সৈন্যকে হত্যা করে ২৪ জনকে বন্ধী করে নিয়ে পরবর্তীতে তাদেরকেও হত্যা করে।

       

      ১০ ই নভেম্বর ১৯৮৩ সালে দলীয় কোন্দলের ফলে খাগড়াছড়িতে এমএন লারমাকে হত্যা করে তারই দলের বিদ্রোহী সদস্যরা। এরপর জানুয়ারী ১৯৮৪ সালে শান্তি বাহিনীর দায়িত্ব নেয় এমএন লারমার ছোট ভাই সান্ত লারমা।

       

      এই সেই সান্ত লারমা যার নেতৃত্বে ৩১ শে মে ১৯৮৪ সালে রাঙ্গামাটির ভূষণছড়ার বাঙালি বসতির উপর এক বর্বর ঘৃণ্য হামলা পরিচালিত হয়। এই হামলায় প্রায় ৪০০ বাঙালিকে তারা নির্বিচারে হত্যা করে।

       

      ২৯ শে এপ্রিল ১৯৮৬ তে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে হামলা করে ১৯ জন বাঙালিকে হত্যা করা হয়। ২৬ জুন ১৯৮৯ সালে বান্দরবনের বেশ কিছু গ্রাম জালিয়ে দেয়, ১৯৯৬ সালে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবনে ৩০ জন বাঙালিকে অপহরণ করে হত্যা করে।

       

      ১৯৭৭-৯৭ সাল পর্যন্ত ২০ বছরে প্রায় ২০,০০০ মানুষকে হত্যা করার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রবল চাপে পড়ে ক্লান্ত শান্তি বাহিনী সরকারের সাথে বিভিন্ন শর্তে ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি করতে সম্মত হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে ভারতে অবস্থানের পর সান্ত লারমা ৯৭ সালে দেশে ফিরে আসে।

       

      "Inside RAW" বইয়ের পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭ তে উল্লেখ আছে ১৯৯০ এর দশকে ভারতের কৌশলগত দিক পরিবর্তনের ফলে শান্তি বাহিনী বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। শান্তি বাহিনী তাদের মিযোরাম ও নাগাল্যান্ডের জন্যেও হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।

       

      সান্ত লারমার নেতৃত্বে পিসিজেএসএস নিজেদেরকে উপজাতিদের রক্ষক বললেও, এদের ইতিহাস বর্বরাতায় ভরা। শুধু বাঙালি নয় সাধারণ উপজাতিদের উপরেও এরা নানা অত্যাচার চালাতে থাকে। ২০২৪ সালে ২১ জন জুম্মা উপজাতি নিহত হয় তাদের হাতে। এদের কারনেই উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ বাড়ে এবং এই অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ে।

       

      সান্ত লারমা ১৯৬৩ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতক এবং ৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য স্নাতকোত্তর করে। রাঙামাটি জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের পাশেই তার আবাসস্থল।

       

      নিউ এজ বিডি এর তথ্য মতে গত ৩রা মে ২০২৫ সালে আখাউড়া বন্দর দিয়ে সান্ত লারমা চিকিৎসার নাম করে ভারতে যায়। বর্তমানে ত্রিপুরা ও মিযোরাম অঞ্চলে অবস্থান করে ভারতের সহযোগিতায় সে তার দলকে পুনরায় বাংলাদেশের পাহাড়ী অঞ্চল অস্থিতিশীল করার জন্যে পরিচালিত করছে।

       

      এবং নিশ্চয়ই তার পিছনে পুনরায় কলকাঠি নাড়ছে বাংলাদেশের আজন্ম শত্রু দেশ ও তার বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সেই বিশেষ বাহিনী।


Post a Comment

0 Comments